গতকাল ৭ মে ২০১৫ বৃহস্পতিবার ছিল শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১১ম শাহাদাৎ বার্ষিকী। তিনি ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গাজীপুরের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য। আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি’র ১১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলালীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলী, ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন […]

গতকাল ৭ মে ২০১৫ বৃহস্পতিবার ছিল শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ১১ম শাহাদাৎ বার্ষিকী। তিনি ছিলেন জাতীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা, শিক্ষক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও গাজীপুরের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য।
আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি’র ১১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন স্থানে আওয়ামীলীগ, শ্রমিকলীগ, মহিলালীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলী, ছাত্রলীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন দিবসটি পালনে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছে। কর্মসূচীতে মন্ত্রী, এমপি, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। বৃহস্পতিবার সকালে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র কোরআনখানি, শোক পতাকা, জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, নেতাকর্মীদের কালো ব্যাজ ধারণ, আহসান উল্লাহ মাস্টারের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শহীদের পরিবারের পক্ষ থেকে হায়দরাবাদ গ্রামে আয়োজিত দোয়া অনুষ্ঠান। দুপুরে নোয়াগাঁও এম.এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার সাথে নিহত রতন, হানিফ, মনির ও আফাজের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও আলোচনা সভা। বাদ আসর দলীয় কার্যালয় সমূহে দোয়া অনুষ্ঠিত হবে। গরিব এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করবে।
শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি ২০০৪ সালে ৭ মে পবিত্র শুক্রবার গাজীপুরের টঙ্গীর নোয়াগাঁও মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ১০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখাকালীন সময়ে বিএনপি জামাত জোটের দু®কৃতকারীদের বাঁশফায়ারে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর গাজীপুরের পূর্বাইল ইউনিয়নের হায়দরাবাদ গ্রামে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জন্মগ্রহণ করেন।
১৯৬৫ সালে এসএসসি পাস করে ঢাকা সাবেক কায়দে আজম কলেজে ভর্তি হন। সে সময় থেকেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতির সাথে জড়িত হন। ১৯৭০ সালে ডিগ্রী পাস করেন। এর পর তিনি নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৭০ সালে সাধারণ পরিষদ নির্বোচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে ব্যাপক কাজকর্ম শুরু করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীন হওয়ার পর একদিকে শিক্ষক অন্যদিকে রাজনীতি ও সমাজসেবা করতে থাকেন। তিনি ১৯৭১ সালে টঙ্গীর মেঘনা সুতা কলের সামনে ৫ই মার্চ, জয়দেবপুরে ১৯ মার্চ প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তিনি নোয়াগাঁও হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক, পূবাইল ইউপি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং বার বার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৭৫ সালের ৫ নভেম্বর জাতীয় ৪ নেতা ও বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার প্রতিবাদে টঙ্গীর সাতরং গেইট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। শ্রমজীবি মানুষের জন্য এই নির্লোভ ব্যক্তিত্ব শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টারকে বিএনপি জামায়াত জোট বার বার হত্যা করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। অবশেষে দু®কৃতকারীরা তাকে হত্যা করে সফলকাম হয়। মৃত্যুকালে তার যোগ্য স্ত্রী, ১কন্যা, ২পুত্র সন্তান রেখে যান। বর্তমানে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপির এ আসন থেকে তারই যোগ্য সন্তান আলহাজ্ব মোঃ জাহিদ আহসান রাসেল বার বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আরেক পুত্র মোঃ জাবিদ আহসান সোহেল অকালে মৃত্যুবরণ করে গাজীপুর ও টঙ্গীবাসীকে সুখ সাগরে ভাসিয়ে চলে যান। শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার এমপি ছিলেন আপাদমস্তক দেশপ্রেমিক।