মাঈনুল ইসলাম নাসিম : প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা মূল্যের ২ লক্ষাধিক টন গমে কত লক্ষ পোকামাকড় ছিল বা আছে তা গণনা করা কারো পক্ষে সম্ভব না হলেও ঢাকার হাইকোর্ট কিন্তু ঠিকই জানতে চেয়েছে, “বাংলাদেশের মানুষ কি খাদ্যের সঙ্গে কীটপতঙ্গ খায়”? জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে দুই বিচারপতির দেয়া আদেশে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে ব্রাজিলিয়ান গমের ‘গুণগত […]
মাঈনুল ইসলাম নাসিম : প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা মূল্যের ২ লক্ষাধিক টন গমে কত লক্ষ পোকামাকড় ছিল বা আছে তা গণনা করা কারো পক্ষে সম্ভব না হলেও ঢাকার হাইকোর্ট কিন্তু ঠিকই জানতে চেয়েছে, “বাংলাদেশের মানুষ কি খাদ্যের সঙ্গে কীটপতঙ্গ খায়”? জনস্বার্থে দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে দুই বিচারপতির দেয়া আদেশে ইতিমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে ব্রাজিলিয়ান গমের ‘গুণগত মান’। অথচ সরকারীভাবে আদমানি করা এতো বিশাল পরিমাণ গমের কোন তথ্যই নেই ব্রাসিলিয়াতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের কাছে।
ব্রাজিলের রাজধানীতে দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূত মিজারুল কায়েস ৯ জুলাই বৃহষ্পতিবার এই প্রতিবেদককে জানান, “৪শ’ কোটি টাকার গম এখান থেকে বাংলাদেশে নেয়ার ব্যাপারে আগে পরে কোন ব্যক্তি বা সরকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা থেকে আমাদের দূতাবাসের সাথে ন্যূনতম যোগাযোগ করেনি। আমদানীকৃত গমের কোয়ালিটি নিয়ে সংবাদ এখন টিভিতে দেখতে পাচ্ছি। আমাদেরকে তথা বাংলাদেশ দূতাবাসকে কোন কিছু না জানিয়েই ঢাকা থেকে পুরো বিষয়টি ডিল করা হয়েছে এটা সত্য”। গত বছর সেপ্টেম্বরে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ব্রাজিলে যোগদানের আগেও ঢাকা থেকে কেউ দূতাবাসে এতদসংক্রান্ত কোন তথ্য জানায়নি বলে জানান পেশাদার এই কূটনীতিক।
একান্ত আলাপচারিতায় সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস আরো বলেন, “রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনেক কিছু্ই হয়তো আমার বলা সমীচিন হবে না। তবে ব্রাজিল সহ ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশের বহুপাক্ষিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান ধারা বজায় রাখতে হলে ঢাকা থেকে সবকিছু সঠিকভাবে সমন্বয় করতে হবে”। সঠিক সমন্বয় থাকলে গম নিয়ে এমন লঙ্কাকান্ড ঘটতো কি-না জানতে চাইলে রাষ্ট্রদূত বলেন, “সব দেশের গমেই ভালোমন্দ রয়েছে এবং ক্রুটি কিন্তু সংশ্লিষ্ট দেশ বা গমের নয়। সমস্যাটা হচ্ছে সঠিক ট্রেড আমরা করছি কি-না”। যেহেতু গম আমদানী হয় সরকারীভাবে, তাই আগামীতে দূতাবাসকে জানিয়ে তথা মিশনকে এর আওতার ভেতরে রাখা হবে বলে আশাবাদ অভিজ্ঞ কূটনীতিক মিজারুল কায়েসের।
বাংলাদেশী সংবাদ