Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

বাংলাদেশি স্থানীয় সংবাদ
৪:১৪ পিএম, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪

মাহমুদুর রহমান কারারুদ্ধ গণমাধ্যম কলঙ্কিত

র ফি কু ল ই স লা ম: মহান সাধক ব্যক্তিরা বলে গেছেন, পৃথিবীতে এসেছিস একটি দাস রেখে যা এলি আর চলে গেলি এমনটি যেন না হয়, তাই তো বিজ্ঞ, জ্ঞানী, গুণী, সাংবাদিক ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ আসা-যাওয়ার এই দুনিয়ায় কিছু না কিছু রেখে যেতে চান। এই অমর সত্যটি বাস্তবে রূপদান করার প্রত্যয়ে মানুষ কত না […]

মাহমুদুর রহমান কারারুদ্ধ গণমাধ্যম কলঙ্কিত
৭ মিনিটে পড়ুন |

র ফি কু ল ই স লা ম: মহান সাধক ব্যক্তিরা বলে গেছেন, পৃথিবীতে এসেছিস একটি দাস রেখে যা এলি আর চলে গেলি এমনটি যেন না হয়, তাই তো বিজ্ঞ, জ্ঞানী, গুণী, সাংবাদিক ও সচেতন ব্যক্তিবর্গ আসা-যাওয়ার এই দুনিয়ায় কিছু না কিছু রেখে যেতে চান। এই অমর সত্যটি বাস্তবে রূপদান করার প্রত্যয়ে মানুষ কত না প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ সফলতা অর্জনে সক্ষম হচ্ছেন, আবার কেউ হচ্ছেন ব্যর্থ। তবে কর্মে একনিষ্ঠ দায়িত্ববোধ, সঠিক সাধনা ও সাফল্য থাকলে অগ্রযাত্রাকে কিছুতেই কেউ দমিয়ে রাখতে পারে না। যেমন পারেনি জাতির বিবেক মুসলমান এবং ইসলাম ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের হাতের সত্যের ক্ষুরধার কলমকে বিগত ২০১০ সালে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরীর ৫০ লাখ ডলার ঘুষ বাণিজ্যের সত্য বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ায় ফ্যাসিবাদী সরকার সেই সময় ফুঁসে ওঠে মিথ্যা মামলা দিয়ে বীর কলমসৈনিক এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাতিল শক্তির বিরুদ্ধে মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে সাড়ে ৯ মাস কারাগারে রাখে এবং ১ মাস আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ রাখে। কিন্তু সত্যের জয় ঠিকই হলো, আইনের লড়াইয়ের মাধ্যমে জেল থেকে বেরিয়ে আসেন। জেল-জুলুমের ভয়ে মাহমুদুর রহমানের হাতের সত্যের কলম থেমে থাকেনি। আবারও ফ্যাসিবাদী সরকারের অন্যায়, অনিয়ম, দুনীতির বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমানের কলম সিংহের মতো গর্জে ওঠে। কিন্তু ওই জেল-জুলুমের ভয়ে মাহমুদুর রহমান তো তার দায়িত্ব থেকে এক চুল পরিমাণও পিছপা হননি। তাহলে মজলুম সম্পাদককে জেল-জুলুম ও নির্যাতন করে লাভ কী? তাই তো কবি বলেছিলেন, অসত্যের কাছে নত নাহি হবে শির, ভয়ে কাপে কাপুুরুষ লড়ে যায় বীর। সত্য প্রকাশের দায়ে ক্ষমতাসীনদের জুলুম-নিপীড়নে জীবন সায়াহ্নে বেঁচে থাকা আলোচিত ব্যক্তি মাহমুদুর রহমান। সাহসিকতাপূর্ণ সাংবাদিকতার জন্য বাংলার মুসলমান মাহমুদুর রহমানকে ইসলামের একজন প্রাণপুরুষ মনে করেন। নাস্তিক ব্লগাররা যখন মুসলমানদের প্রাণের চেয়ে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি করায় বিশ্ব নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রেমের প্রেমিক হয়ে সত্য কথাগুলো আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশ করে দেয়ার কারণে বিশিষ্ট ধর্মানুরাগী নবীপ্রেমিক এ যুগের সাহসী কলমসৈনিক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে ধর্মীয় উন্মাদনার উসকানিদাতা ও বিভিন্ন মিথ্যা অভিযোগ এনে তার বিরুদ্ধে মোট ৬২টি মামলা করা হয়েছে। আমরা বলতে চাই, ৬২ হাজার মামলা করেও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন থেকে মাহমুদুর রহমানকে দূরে সরানো যাবে না। আর এসব মামলার বাদী সরকারের পা চাটা গোলাম পুলিশ। আমার দেশ পত্রিকার একদিন আগে দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ওই কটূক্তিগুলো ছেপেছিল; কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলো না কেন। তার কারণ কী? অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে বলছি, প্রধানমন্ত্রী কি বাংলাদেশের মানুষকে এতটাই বোকা ভাবছেন যে জাতি কিছুই বোঝে না। মাহমুদুর রহমান ইসলামের পথে একজন সাধারণ সৈনিক। আমাদের প্রিয় ইসলামকে আল্লাহই রক্ষা করবেন। একজন মুসলমান হিসেবে মাহমুদুর রহমানের যতটুকু কর্তব্য, তিনি শুধু তাই করেছেন। এই যুদ্ধে তিনি জয়ী হবেন ইনশাআল্লাহ।
সত্য যতই কঠিন হোক না কেন তা প্রকাশ করতে ন্যূনতম দ্বিধা নেই তার। তাতে তার ফাঁসি হোক আর কেউ বাহ্বা দিক, তাতে তার কিছুই আসে যায় না। সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতা করছে। মিথ্যা ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত্র করছে, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করছে। মাধ্যমিক স্তরে নবম ও দশম শ্রেণীর ধর্মীয় শিক্ষা বইতে দেব-দেবীর নামে উত্সর্গ করা খাদ্য হালাল এবং পঞ্চম শ্রেণীর ইসলাম ও নৈতিক শিক্ষা বইতেও ভুল তথ্য দিয়ে ইসলামের ইতিহাসকে বিকৃত করা হয়েছে। ওই বইয়ের ৫৮ নং পৃষ্ঠায় বলা হয়েছিল ইসলাম এত উদার যে, মহানবী (সা.) ইয়াহুদি-খ্রিস্টান ধর্মযাজকদের মদিনা মজসিদে ইবাদত করার সুযোগ করে দিয়েছেন। মাহমুদুর রহমান অন্ধকারাচ্ছন্ন জাতির গহীন সমুদ্রের নতুন বাতিঘর দিকহারা জাহাজ অন্ধকার রাতে যদি বাতিঘরের সঠিক দিকনির্দেশনা না পায় তবে পথ হারায়, বিপদ ঘটে জাহাজের। ঠিক তেমনিভাবে অন্ধকারে পতিত এই কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের মাহমুদুর রহমান যদি আমার দেশ পত্রিকায় সঠিক দিকনির্দেশনা না দিতেন তাহলে ওই জাহাজের মতোই জাতির বিপদ ঘটে যেত।
মুসলমানদের জন্য মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ভূমিকা নিঃসন্দেহে ওই বাতিঘরের মতোই তিনি পথ দেখালেন মুসলমান জাতিকে। বইগুলো জাতীয় শিক্ষা কার্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা কর্তৃক প্রকাশিত ও ভারতের কলকাতার ২০, হরচন্দ্র মল্লিক (শোভা বাজার), কৃষ্ণা ট্রেডার্স কর্তৃক মুদ্রিত। বিনামূল্যের এই বইটির রচনা ও সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ তমীযুদ্দিন, অধ্যাপক এবিএম আবদুল মান্নান মিয়া ও মুহাম্মদ কুরবান আলী। সমন্বয়ক হিসেবে বইটিতে মোঃ মোসলে উদ্দিন সরকারের নাম উল্লেখ রয়েছে। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করার অর্থ হলো এদেশ থেকে সত্য ও ন্যায়কে চিরতরে মুছে ফেলা। যাতে কেউ এদেশে সত্য কথা না বলে এবং না লিখে। মাহমুদুর রহমান সংবিধান ও দেশের পক্ষে অন্যায়, অত্যাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে। দেশে খুব কম লেখক আছেন যারা ফ্যাসিবাদীদের বিরুদ্ধে কথা বলের সাহস রাখেন। স্কাইপ সংলাপ কেলেঙ্কারির হোতা পদত্যাগকারী বিচারক তদন্তের মুখে পড়লেন না, কিন্তু তা পত্রিকায় প্রকাশ করে মাহমুদুর রহমান রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পড়েন। কী অদ্ভুত এই সরকার। একটা প্রবাদ আছে, সরকার এমনই আনাড়ি যে ষড়যন্ত্রগুলোও তারা নিখুঁত নিশ্ছিদ্রভাবে করতে পারে না। এত আঁটঘাঁট বাঁধার পরও তা এ যুগের সাহসী কলমসৈনিক মাহমুদুর রহমানের কাছে ধরা পড়ে। যেমন ধরা পড়েছিল পদ্মা সেতু দুর্নীতি, ডেসটিনি এবং ইউনিপেটুইউসহ প্রায় ৩০টি মালটি-লেভেল মার্কেটিং কোম্পানি দ্বারা আধা কোটির বেশি মানুষকে প্রতারণা করা, হলমার্ক এবং অন্যান্য কোম্পানির মাধ্যমে বিশেষত সরকারি ব্যাংক লুটপাট করা, গ্রামীণ ব্যাংকে অবাঞ্ছিত সরকারি হস্তক্ষেপ, কুইক রেন্টাল দ্বারা বিদ্যুতের দাম কুইক বিদ্যুতের দাম কুইক বাড়িয়ে আওয়ামী সমর্থকদের কুইক ধনী করা, শেয়ারবাজারে প্রায় ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারীকে নিঃস্ব করা, রেলমন্ত্রীর ঘুষ-বাণিজ্যের দুর্নীতি—সরকারের এসব দুর্নীতির সংবাদ পরিবেশনের কারণে বিনাবিচারে মাহমুদুর রহমানকে আটকিয়ে রাখে ও আমার দেশ পত্রিকা বন্ধ করে দেয় যাতে ফ্যাসিবাদী সরকারের অপকর্ম পত্রিকায় প্রকাশ না হয়। আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান কেবল প্রকৌশলী নন, তিনি সত্যিকারের একজন শক্তিশালী লেখক।
তার লেখা তিনটি বইয়ে অনেক কিছু আছে, যা আমরা জানতাম না। বই তিনটি হলো গুম প্রত্যাবর্তন, জয় আসলে ভারতের ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ। বই তিনটিতে মাহমুদুর রহমান সাধারণভাবে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, খূটনীতি, সর্বোপরি গণমানুষের হৃদয়ের কথা তুলে ধরেছেন। দেশের সাংবাদিক তার অঙ্গ ছাড়িয়ে পুরো বিশ্বে মাহমুদুর রহমান এখন ইতিহাসের পাতা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। একজন প্রকৌশলী থেকে পত্রিকার সম্পাদক হওয়াটা অনেকে ভিন্নভাবে দেখছেন। তবে আমার মতে, বৃক্ষ তুমি কী ফলে পরিচয়। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদনা হাতে নেয়ার পর থেকে নয়, এর অনেক দিন আগে থেকেই মাহমুদুর রহমানের লেখার আমি একজন ভক্ত। একজন মেধাবী ইঞ্জিনিয়ারের লেখনীতে ইতিহাসের এমন তথ্য দেখে আমি বিস্মিত হই। তবে যাই হোক, সত্য প্রকাশের দুরন্ত সাহস দেখানোর জন্য মাহমুদুর রহমানকে নোবেল পুরস্কারে মনোনীত করার প্রয়োজন ছিল। অথচ ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী তাদের অন্যায় অত্যাচার, ঘুষ, দুর্নীতিগুলো জনসম্মুখে পত্রিকায় প্রকাশিত হোক তা তারা চায় না। তবে পরে তাদের এর খেসারত দিতে হবে খুব লজ্জাজনক এবং চরমভাবে। ইতিহাস সাক্ষী, ২০১৩ সালে এবং ১৯৭৪-৭৫ সালের মধ্যে তেমন কোনো পার্থক্য নেই। একটি প্রবাদ ‘ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে’—এই সরকার আবার ১৯৭৫-এর অপশাসনে ফিরে যাচ্ছে? শেখ মুজিবুর রহমান ক্ষমতাকে স্থায়ী করার জন্য বিভিন্ন বাহিনী গঠন করেছিলেন। সংবাদপত্রের মৌলিক অধিকারও কেড়ে নিয়েছিলেন। হাসিনা সরকার তা আবার প্রমাণ করল, আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদককে কারারুদ্ধ করে এবং পত্রিকার ছাপাখানা বন্ধ করে দেয়া গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যার শামিল। যার জন্য জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। গণতান্ত্রিক সব মূল্যবোধকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার গত ১৯ এপ্রিল ২০১৩ আমার দেশ সম্পাদক সময়ের সাহসী কলমসৈনিক মাহমুদুর রহমানকে কমান্ডো স্টাইলে আমার দেশ পত্রিকা অফিস থেকে গ্রেফতার করে। মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করার অর্থ হলো এদেশ থেকে ন্যায় ও সত্যকে চিরতরে মুছে ফেলা, কিন্তু ফ্যাসিবাদী সরকারের কাল্পনিক সাধ-ইচ্ছা কোনোদিনও পূরণ হবে না। এই দেশ শাহজালালের দেশ, শাহ পরানের দেশ, শাহ মাখদুমের দেশ, শাহ আমানতের দেশ, খান জাহান আলীর দেশ। হাজী শরীয়ত উল্লা, বখতিয়ার আজ বাংলার ঘরে ঘরে। এই দেশে বাকশাল টিকতে পারেনি। নব্য বাকশালও গঙ্গায় যাবে। আমি আজ পর্যন্ত নিশ্চিন্ত, একটি প্রজন্ম বলবে এই দেশ মাহমুুদুর রহমানের দেশ। বাংলার ঘরে ঘরে মাহমুদুর রহমানের জন্ম হোক। পরিশেষে ফ্যাসিবাদী সরকারকে বলছি, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা কোনো গণতান্ত্রিক সরকারের কাজ হতে পারে না। মাতৃতুল্য মাতৃভূমি বাংলাদেশকে আর কলঙ্কিত না করে বন্ধ সব গণমাধ্যম ও সত্যনিষ্ঠ সাহসিকতা গণমানুষের মজলুম সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে মুক্তি দিয়ে গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে চলতে দিন আর না হয় এর পরিণাম দেশের জন্য শুভ হবে না। এই জাতি বড়ই বেয়াড়া। সব ধরনের অন্যায়-অত্যাচার, নির্যাতন-অপশাসন সহ্য করতে করতে এমন এক সময় আসবে তখন আর গুলি, বন্দুক, বোমা, টিয়ার গ্যাসে কাজ হবে না। পুলিশ আর ব্লগার দিয়ে দাবিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।
লেখক : লাখাই, হবিগঞ্জ

 

সূত্র: দৈনিক আমারদেশ অনলাইন

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

প্রাণ হাতে নিয়ে ইউরোপ!
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ
রাজশাহীর ‘কলাই রুটি’
৫ বছর আগে
বাংলাদেশি সংবাদ

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com