Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

বাংলাদেশি স্থানীয় সংবাদ
৬:৫০ পিএম, ৪ এপ্রিল ২০১৪

বাংলাদেশ-ভারত ‘বিদ্যুৎ করিডোর’ ভারতই লাভবান হবে

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারত বিদ্যুৎ নিয়ে যাবে এক প্রদেশ থেকে আরেক প্রদেশে। দু’দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি একে বলছে ‘বিদ্যুৎ করিডোর’। দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরকম করিডোরে ভারতই লাভবান হবে। আর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে এ দেশের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম অঞ্চলে বিদ্যুৎ লাইন টেনে নিতে অনেক কৃষি জমি নষ্ট […]

বাংলাদেশ-ভারত ‘বিদ্যুৎ করিডোর’ ভারতই লাভবান হবে
৩ মিনিটে পড়ুন |

বিশেষ সংবাদদাতা : বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারত বিদ্যুৎ নিয়ে যাবে এক প্রদেশ থেকে আরেক প্রদেশে। দু’দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি একে বলছে ‘বিদ্যুৎ করিডোর’। দেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এরকম করিডোরে ভারতই লাভবান হবে। আর অর্থনৈতিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়বে এ দেশের সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে ভারতের উত্তর-পূর্ব থেকে পশ্চিম অঞ্চলে বিদ্যুৎ লাইন টেনে নিতে অনেক কৃষি জমি নষ্ট হবে। ফলে অসংখ্য কৃষক তার আবাদি জমি হারাবে। যার বিরূপ প্রভাব ফেলবে ফলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে। এছাড়াও বাংলাদেশের যেসব এলাকার ওপর দিয়ে ভারতের হাই ভোল্টেজ বিদ্যুৎ লাইন যাবে-সেসব এলাকা থাকবে নানাবিধ দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
জানা যায়, ৬০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়ে যাওয়ার গ্রিড লাইনের রুটের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে দুই দেশের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি। দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় এ গ্রিড লাইন আসামের রাঙ্গিয়া রাওতা থেকে বড়পুকুরিয়া হয়ে আবার ভারতে যাবে। এ গ্রিডের বিদ্যুৎ বাংলাদেশও ব্যবহার করতে পারবে বলে স্টিয়ারিং কমিটি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে স্টিয়ারিং কমিটির সপ্তম বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম এবং ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সে দেশের বিদ্যুৎ সচিব পিকে সিনহা। বেঠক শেষে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয় দুই পক্ষ থেকে। তবে এ করিডোর থেকে বাংলাদেশ কি সুবিধা পাবে এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ভারত ত্রিপুরার পালাটনে এক হাজার মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করতে বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে যায়। এসময় বাংলাদেশকে তারা ট্রানজিট হিসাবে ব্যবহার করে। এই ট্রানজিট ব্যবহার করে ত্রিপুরাতে ভারত খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রীও নিয়ে গেছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ কতটুকু লাভবান হয়েছে-জানা না গেলেও ভারত লাভবান হয়েছে এ নিয়ে কারো কোনো সন্দেহ নেই। ওইসময় ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল-ত্রিপুরায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ ট্রানজিট সুবিধা দিলে তিস্তার পানি চুক্তি দ্রুত সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে পালাটনে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের সকল ভারি যন্ত্রপাতি নেয়া হলেও; উত্তরাঞ্চলের আড়াই কোটি মানুষের বেঁচে থাকার স্বপ্ন তিস্তার পানি চুক্তি আজও হয়নি।
বিদ্যুৎ সচিব মনোয়ার ইসলাম বলেন, এখানে আজকের সবচেয়ে সফল বিষয় হচ্ছে, ভারত-বাংলাদেশের যৌথ কারিগরি কমিটি একটা প্রতিবেদন দিয়েছে। তাদের সেই প্রতিবেদন আমরা নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছি। অনুমোদনের প্রেক্ষিতে অন্য একটি কারিগরি টিম করে দেয়া হয়েছে। দ্বিতীয় গ্রিড লাইনের বিষয় তারা পরীক্ষা করে দেখবেন। করিডোর অনুমোদন করাকে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন ভারতের বিদ্যুৎ সচিব পিকে সিনহা। এ করিডোর থেকে বাংলাদেশ কি সুবিধা পাবে এমন প্রশ্নে বিদ্যুৎ সচিব বলেন, আমাদের মনে হয় এখনও হিসাব করার সময় আসেনি। রিজিওনাল কো-অপারেশন ইজ এ উইন উইন সিচুয়েশন। এখানে উভয় দেশের বেনিফিট অবশ্যই। আমরা ওখান থেকে অবশ্যই কিছু বিদ্যুৎ পাব। এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভারতকে বিদ্যুৎ করিডোর দেয়ার বিষয় ছাড়াও বৈঠকে ভারত থেকে ১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং ভেড়ামারা-বহরমপুর আন্তঃদেশীয় গ্রিড লাইনের মাধ্যমে আরও ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনার বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি কারিগরি কমিটি গঠনেরও সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে বিদ্যুৎ সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতের বিদ্যুৎ সচিব। কীভাবে এই দেশগুলো বিদ্যুৎ নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারে তা নিয়ে মে মাসে দিল্লিতে বৈঠক হবে বলে জানান তিনি।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রামপালের কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট উৎপাদন শুরু করবে বলেও জানান ভারতের বিদ্যুৎ সচিব। তিনি বলেন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে বাংলাদেশ-ভারত ১৫ শতাংশ করে ৩০ শতাংশ অর্থায়ন করবে। আর ৭০ শতাংশ অর্থ আসবে ঋণের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য সুখের বিষয়টি হচ্ছে ভারত ১৫ শতাংশ বিনিয়োগ করলেও কোনো বিদ্যুৎ নেবে না। পুরো বিদ্যুৎই পাবে বাংলাদেশ। বিদ্যুতের মূল্য এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ফাইন্যান্সিয়াল ক্লোজিং হলে বিষয়টি বলা যাবে। তিনি বলেন, ভারতে এধরনের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে প্রায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ পড়ছে বাংলাদেশী টাকায় সাড়ে ৬ টাকার মতো। এর সঙ্গে ঋণের বিষয়টি যুক্ত হয়ে বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

প্রাণ হাতে নিয়ে ইউরোপ!
৫ বছর আগে
অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ
রাজশাহীর ‘কলাই রুটি’
৫ বছর আগে
বাংলাদেশি সংবাদ

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com