নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগান ও পরিবারের হাল ধরা হলোনা মেধাবী শিক্ষার্থী রমজান আলীর। চাকরিতে যোগদানের প্রথম দিনেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো সে। নিহত রমজান সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও একই উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশনগর গ্রামের শাহ আলমের পুত্র। বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে বের হয়ে ৪ দিনের মাথায় এভাবে লাশ […]
নিজের লেখাপড়ার খরচ যোগান ও পরিবারের হাল ধরা হলোনা মেধাবী শিক্ষার্থী রমজান আলীর। চাকরিতে যোগদানের প্রথম দিনেই লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো সে। নিহত রমজান সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সমুজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ও একই উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের গিরিশনগর গ্রামের শাহ আলমের পুত্র।
বাড়ি থেকে কাজের সন্ধানে বের হয়ে ৪ দিনের মাথায় এভাবে লাশ হয়ে ফিরতে হলো তাকে। এলাকায় ও পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম।
অসহায় দরিদ্র পরিবারকে কোনো প্রকার আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই লাশ ভাড়াটে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে দায় সেরেছে কোম্পানি। তার মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের উদ্রেক হওয়ায় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী ও সংম্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শিগগির আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান নিহতের পরিবারসহ স্থানীয়রা।
জানা যায়, সংসারে অভাব-অনটনের মধ্যে কোনোমতে মাধ্যমিকের গন্ডি পেরিয়ে সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হয়েছিল রমজান আলী (১৬)। তার বাবা শাহ আলম শ্রমিকের কাজ করে সংসার চালান। তিন ছেলে মেয়ের মধ্যে রমজান আলী বড়।মাস কয়েক আগে রমজান আলী স্থানীয় টেংরা উচ্চ বিদ্যালয় হতে সমুজ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়। কলেজে ভর্তি হওয়ার পর সে লেখাপড়ার খরচ যোগান দিতে না পারায় বৃহষ্পতিবার পরিবারের কাউকে না জানিয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে একই গ্রামের আব্দুল মালেকের পুত্র রিপন মিয়ার সঙ্গে নরসিংদীতে যায়।
তার সহপাঠীরা জানান, সোমবার থেকে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার ইটখোলাস্থ ‘আদরী গার্মেন্টস’ ফ্যাক্টরীর ভেতরে পানির ট্যাংকি পরিস্কারের কাজ পায়। প্রথম দিনই পানির ট্যাংকি পরিস্কার করতে গিয়ে সেখানে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় সে। এ সময় তার চিৎকার শুনে অন্যান্য শ্রমিকসহ গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তখন তাকে মৃত ঘোষণা করলে সেখানেই পুলিশ তার সুরতহাল রিপোর্ট করে ময়না তদন্ত সম্পন্ন করে।
সোমবার রাতে আদরী ফ্যাক্টরীর নিজস্ব অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহত রমজান আলীর লাশ বাড়িতে পাঠায়। পথিমধ্যে রহস্যজনকভাবে ভৈরবে এসে অন্য একটি ভাড়াটে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার লাশ দোয়ারাবাজারে পাঠানো হয়।