নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের রক্ত জল করা কামাই আর কেনাকাটা থেকে বাংলাদেশের ট্যাক্সের একটা বড় অংশ আসে। আহমদ শফি গতকালও বলেছেন গার্মেন্টস চাকুরে মেয়েরা জেনাকারি। আমাদের দেশে জন্মের পর শিশুদের পোলিও সহ বেশকটি রোগের টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই টিকা গুলো ফ্রি দেওয়া হয়। টিকা গুলো ফ্রি দেওয়া হলেও এগুলো বানাতে কিন্তু […]
নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের রক্ত জল করা কামাই আর কেনাকাটা থেকে বাংলাদেশের ট্যাক্সের একটা বড় অংশ আসে। আহমদ শফি গতকালও বলেছেন গার্মেন্টস চাকুরে মেয়েরা জেনাকারি।
আমাদের দেশে জন্মের পর শিশুদের পোলিও সহ বেশকটি রোগের টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়ে থাকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই টিকা গুলো ফ্রি দেওয়া হয়। টিকা গুলো ফ্রি দেওয়া হলেও এগুলো বানাতে কিন্তু টাকা লাগে। যেই টাকাটা লাগে তার সবচাইতে বড় অংশটা দেন বিল গেটস নামের ভদ্রলোকটি (সরকারও একটা অংশ দেয়)। তারেক মনোয়ার সাহেব বিল গেটসকে বলেছেন টিকটিকি।
বাংলাদেশের ওয়ার্কিং পপুলেশনের সবচাইতে বড় অংশ কাজ করে গার্মেন্টসে। গার্মেন্টস শ্রমিকদের সবচাইতে বড় অংশ নারী। পোলিও টিকার বাদবাকি টাকাটা সরকার যে দেয় সেই টাকাটা সরকার ধান আবাদ করে কামাই করে না। এই নারী গার্মেন্টস শ্রমিকদের রক্ত জল করা কামাই আর কেনাকাটা থেকে সেই ট্যাক্সের একটা বড় অংশ আসে। আহমদ শফি গতকালও বলেছেন গার্মেন্টস চাকুরে মেয়েরা জেনাকারি।
মুফতি কাজী ইব্রাহিম বলেন কুকুরের বাচ্চার প্রসব করতে ডাক্তার না লাগলে মানুষের বাচ্চার কেন লাগবে? একই ওয়াজে তিনি বলেছেন তার একটি বাচ্চাকেও তিনি কোন টিকা নিতে দেননি। কারণ তার বিশ্বাস এই টিকা দিলে বাচ্চার এইডস হতে পারে।
প্রিয় বাংলাদেশের বন্ধুগণ, আপনারা জানেন গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেশ্যা নন, প্রসব বেদনায় কাতর প্রসুতি মা কুকুর নন আর বিল গেটস টিকটিকি নন। আমি জানি আপনাদের ৯০% বাংলাদেশকে একটা সেক্যুলার রাষ্ট্র হতে দেবেন না, সেটা আপনারা না-ই দিতে পারেন, আপনাদের বিবেচনা। আপনারা সংখ্যাগুরু, আপনারা যেভাবে ভাবেন রাষ্ট্রও সেইভাবেই চলবে। কিন্ত রাষ্ট্রকে তারেক মনোয়ার, আহমদ শফি আর মুফতি ইব্রাহিমের মত লোকেদের হাতে ছেড়ে দিয়েন না। তারা যখন ‘কথা বলেন ঠিক-কি-না’ বলেন তখন আপনারা মাথাটা উঁচু করে একটু বলেন ‘না-ঠিক-না’।
আহমদ শফি- নারী শিক্ষার বিরোধী, নারীকে ঘরে বেঁধে রাখার পক্ষপাতী, আজকে সময় আপনার পক্ষে। না হলে হয়তো ডাক্তারের অভাবে আপনার প্রসবের সময় আপনার মা-ও মারা যেতে পারতেন। না হলে হয়তো আপনি পোলিও রোগী হয়ে আমৃত্যু বিকলাঙ্গ থাকতে পারতেন।
হুজুরের ‘ঠিক-কি-না-বলেন’ এর উত্তরে যখন আপনি ‘ঠিক… ঠিক…’ বলে লাফান তখন দুর্ঘটনায় পা হারানো ড্রাইভারের যেই স্ত্রী গার্মেন্টসে কাজ করে স্বামীর চিকিৎসা করতো তার আয়ের পথটা বন্ধ হয়ে যায়। তাকে অবশেষে জেনার রাস্তায় যেতে হয়। তার সেই পথে যাওয়ার পেছনে আপনার হাত থাকে।
হুজুরের ‘ঠিক-কি-না-বলেন’ এর উত্তরে যখন আপনি ‘ঠিক… ঠিক…’ বলে লাফান তখন পোলিও টিকা ফ্রি থাকার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। বিকলাঙ্গ, অসুস্থ শিশুর জন্ম হয়। এতে আপনার দায় থাকে।
হুজুরের ‘ঠিক-কি-না-বলেন’ এর উত্তরে যখন আপনি ‘ঠিক… ঠিক…’ বলে লাফান তখন উত্তরবঙ্গে একজন প্রসুতি মা-কে ডাক্তারের কাছ থেকে ফিরিয়ে আনার রাস্তা তৈরী করা হয়। সেই মা মারা যান। সেই মায়ের মৃত্যুতে আপনার হাত থাকে।
মানুষকে বাঁচাতে না পারেন, মানুষ হত্যায় অন্তত অংশগ্রহণ কইরেন না…