Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

ইসলামী জীবন
৬:৫০ পিএম, ১৬ অক্টোবর ২০১৪

কার কবর খুঁড়ছেন লতিফ সিদ্দিকীরা

নবী করিম (সা.) যে দিন জন্মগ্রহণ করেন সেদিন পারস্য সাম্রাজ্যের হাজার বছর প্রাচীন অগ্নিকু- হঠাৎ নিভে যায়। অগ্নিদেবতা, সূর্য ও পাবক পূজারি পুরোহিতরা স¤্রাটকে বলে শেষ জামানার নবী এসে গেছেন। রোমান সাম্রাজ্যের রাজপ্রাসাদের স্তম্ভ ভূকম্পনে ধসে পড়ে। সিজারকে তার ধর্মযাজকরা সংবাদ দেন যে, আখেরি জামানার নবী দুনিয়ায় এসে গেছেন। হজরত নবী করিম (সা.)-এর মা বিবি […]

কার কবর খুঁড়ছেন লতিফ সিদ্দিকীরা
১১ মিনিটে পড়ুন |

ar-rehman-islamic-center-corporate-art-task-force

নবী করিম (সা.) যে দিন জন্মগ্রহণ করেন সেদিন পারস্য সাম্রাজ্যের হাজার বছর প্রাচীন অগ্নিকু- হঠাৎ নিভে যায়। অগ্নিদেবতা, সূর্য ও পাবক পূজারি পুরোহিতরা স¤্রাটকে বলে শেষ জামানার নবী এসে গেছেন। রোমান সাম্রাজ্যের রাজপ্রাসাদের স্তম্ভ ভূকম্পনে ধসে পড়ে। সিজারকে তার ধর্মযাজকরা সংবাদ দেন যে, আখেরি জামানার নবী দুনিয়ায় এসে গেছেন। হজরত নবী করিম (সা.)-এর মা বিবি আমেনার চোখে ভেসে ওঠে প্রাচ্য থেকে প্রতিচ্যের বড় বড় সব শক্তি কেন্দ্রসমূহ। দামেস্কের পুরাতত্ত্ব, হিরাক্লিয়াসের গর্বিত স্থাপনা, ইয়েমেনের প্রাচীন দুর্গ ইত্যাদি পর্যন্ত প্রলম্বিত আলোক স্তম্ভ। অলৌকিকতায় ভরা সন্তান ধারণ,  প্রসব ও নবজাতকের প্রভুত আচরণ তাকে মুগ্ধ ও বিস্মিত করে দেয়।
এরপর শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য, যৌবন ও  পৌঢ়ত্ব সবই ছিল তার অপার অলৌকিকত্বে পূর্ণ। বাস্তবভিত্তিক জীবন-সংগ্রাম আর ঐশী ক্ষমতার অনন্তধারা হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনকে দিয়েছে পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সফল ব্যক্তিত্বের গৌরব। হজরত বলেছেন, ‘আমি আদম সন্তানের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা; কিন্তু এতে আমার কোন গর্ব নেই। আমি তখনও নবী ছিলাম যখন আদমের অস্তিত্ব ছিল মাটি, পানি ও কাদায় নিমগ্ন।’ সৃষ্টি জগতের মধ্যমণি, বিশ্বসভার প্রধান অতিথি, ইহ ও পরলোকের শাহানশাহ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর শান মর্যাদা ও অবস্থান আল্লাহর পরেই সর্বোচ্চ মহান। তিনি আল্লাহর প্রিয়তম সৃষ্টি, তার মহত্তম বান্দা ও রাসূল।
ইহকালীন অবস্থা পরিবর্তন হলেও তিনি বিশেষ জীবন ও জাগৃতি নিয়ে পবিত্র মদীনাতুন্নবী বা নবী নগরীতে রয়েছেন। উম্মতের জন্য তার চিন্তা, উৎকণ্ঠা, দয়া, ভালোবাসা আর অফুরান  শুভকামনা এক মুহূর্তের জন্যও রুদ্ধ হয়নি। নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে আমার কবরের পাশে এসে দাঁড়ায় সে যেন স্বয়ং আমাকেই দেখতে এলো। দুনিয়ায় থাকাবস্থায় আমার সাক্ষাতে আসা আর বর্তমানে আমার রওজায় হাজিরা দেয়ার মধ্যে কোন ফারাক নেই। তিনি বলেছেন, যে আমার প্রতি অধিক দুরুদ পাঠ করে সে দূরে থেকেও আমার কাছে থাকে। আমার প্রতি অধিক সালাম পেশকারীই আমার বেশি নিকটের।
আল্লাহ প্রদত্ত মু’জিযা হিসেবে অকল্পনীয় শক্তিশালী আধ্যাত্মিক প্রভাবের দ্বারা বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ধর্মীয় কার্যক্রম নির্দেশিত হয় মদিনার মসজিদে নববী থেকে। দুনিয়ার পার্থিব শাসনব্যবস্থার বাইরেও যে আধ্যাত্মিক ও সৃষ্টিগত (রুহানি ও তাকভীনি) শাসন-শৃংখলা রয়েছে তা পরিচালিত হয় নবী করিম (সা.)-এর জ্যোতির্ময় তত্ত্বাবধানে। সুন্নাহ, ইলমে হাদিস, তরিকা, তাসাওওফ ইত্যাদির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয় এই পরিচালনা। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলে দায়িত্বশীল কর্মী ও সাধকের মধ্যকার যোগাযোগও হয় আত্মিক ক্ষমতা আর প্রাকৃতিক ইশারার মধ্য দিয়ে। এই নেটওয়ার্ক আর কানেকটিভিটি পুরোটাই ঈমানী ক্ষমতা নির্ভর।
নবী করিম (সা.)-এর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা তার চার খলিফা  ছাড়াও আরো আটজন সাহাবির মাধ্যমে প্রযোজ্য হয়। মহান চার খলিফার সাথে ওই আটজন অর্থাৎ মোট বারজন সাহাবি ছিলেন নবী (সা:)-এর তরিকার প্রবর্তক। মুসলিম বিশ্বে সর্বাধিক প্রচলিত মূল চারটি তরিকার সূত্রও এই আধ্যাত্মিক পন্থা। চিশতিয়া, মুজাদ্দেদিয়া যেমন কাদেরিয়ার ছায়ারূপে উপমহাদেশে কার্যকর রয়েছে তার অসংখ্য শাখা-প্রশাখা নিয়ে। বৃহত্তর ইরাক ও সিরিয়ায় আলো ছড়াচ্ছে কাদেরিয়া ও নকশবন্দিয়া তরিকা। ইয়েমেনের সিদ্দিকীয়া উৎস, মিসর ও আলজেরিয়ায় জনপ্রিয়। আবার লিবিয়া, তিউনিসিয়ায় সেনৌসি ধারা কাদেরিয়া তরিকার প্রতিচ্ছায়া অবলম্বন করায় ইরাক, ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ভারতের সাথে সাদৃশ্য রাখে। তুরস্ক, কুর্দিস্তান, জর্দান ও লেবাননের শাজলি ধারা নকশবন্দিয়া উৎসের কারণে গোটা মধ্য এশিয়াকে টানে। ইরাক ও সিরিয়ার জনজীবনে নকশবন্দিয়া তরিকার প্রভাব অসামান্য। প্রাকৃতিকভাবে বিশ্ব মানচিত্রে আধ্যাত্মিক নতুন ছক কাটা হচ্ছে তরিকাভুক্ত দীনদার জিহাদপ্রিয় সাধক মুসলমানদের অপরিসীম ধৈর্যত্যাগ ও কোরবানীর বিনিময়ে।
নবী করিম (সা.) খাজা মুঈনদ্দীন হাসান চিশতিকে (রহ.) রওজা শরিফ জিয়ারতের সময়ই স্বপ্নে নির্দেশ দেন ভারতবর্ষে গমনের। তাকে বলা হয়, তোমাকে ভারত ভূমির হেদায়েতের জন্য নির্ধারণ করা হল। তাকে সুলতানুল হিন্দ বা উপমহাদেশের প্রকৃত স¤্রাট খেতাবও আধ্যাত্মিক সিদ্ধান্তেই দেয়া হয়। যার প্রভাব ও প্রতিপত্তির সাথে পাল্লা দেয়া রাজনৈতিক শাসকদের পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। লাহোরের দাতাসাহেব আলী হুজবিরি, দিল্লির নিজামউদ্দীন খাজা সুলতানুল আউলিয়া, আজমিরের খাজা সাহেব, বাংলাদেশের হজরত শাহ জালাল মুজাররাদসহ এ অঞ্চলের তরিকাপন্থী শায়খদের প্রতিপত্তি কি কোনদিন শেষ হতে পারে? জনজীবনে তাদের শিক্ষা, আদর্শ ও মানবতা কত যে গভীর  রেখাপাত করে আছে তা দেখার জন্যও আলাদা দৃষ্টিশক্তির প্রয়োজন। ৬৫ কোটি মুসলমান এ অঞ্চলে তাদের সাধনারই ফসল।
বাংলাদেশ, ভারত,  পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার অঞ্চলের সকল মত ও পথের ইসলামী শক্তি যে ব্যক্তিত্বের ভারসাম্যপূর্ণ নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল, দিল্লির শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস (রহ.) বলেছেন, হারামাইনে বসে আমি যখন কোন রচনায় হাত দিয়েছি তখন নবী করিম (সা.)-এর আধ্যাত্মিক প্রভাব আমার জ্ঞান ও চিন্তাশক্তিকে পরিচালিত করেছে, যার ফলে বহু বিষয় রচনার পর আমি নিজেই বিস্মিত হয়েছি যে, এ আমি কী করে লিখলাম। এতো আমার জানা ছিল না। কোন কিতাবেও পড়িনি, কোন ওস্তাদের মুখেও শুনিনি। আগে আমি জানতামও না, এমন অসংখ্য বিষয় আমি আমার রচনায় খুঁজে পেয়েছি।
ইতিহাসে দেখা গেছে দীর্ঘ দেড় হাজার বছরে মুসলিম উম্মাহর প্রতিটি জয়-পরাজয়, ভালো-মন্দ, সুদিন-দুর্দিনে নবী করিম (সা.)-এর দিকনির্দেশ। বাহ্যিকভাবে তো কোরআন-সুন্নাহ আছেই, পাশাপাশি এ দু’টোর ধারকবাহক হিসেবে নায়েবে রাসূল (সা.) বা ওরাসাতুল আম্বিয়া (নবীগণের উত্তরসূরি) শ্রেণীর জীবন্ত উপস্থিতি উম্মাহকে পথ দেখিয়েছে। বাংলাদেশে নবী করিম (সা.)-এর প্রতি নজিরবিহীন বিষোদ্গার, চরম কটূক্তি ও অবমাননার ঘটনায় পক্ষ-বিপক্ষ দু’টি ধারা দেখা যায়। যারা এর পক্ষে নীরব বা সরব ভূমিকায় ছিলেন তারা চিরজনমের মতো নিজেদের ভাগ্য খারাপ করে ফেলেছেন। তারা নিজেরাই নিজের সৌভাগ্য ও সাফল্যের কবর রচনা করে নিয়েছেন। আর যারা নবীপ্রেমের পরিচয় দিয়ে ঈমানের পথ বেছে নিয়েছেন তারা চিরসাফল্যের নিশ্চয়তা পেয়ে গেছেন। ইনশাআল্লাহ এর আলোকেই বাংলাদেশের আগামীদিনের ইতিহাস রচিত হবে। গোটা উপমহাদেশও এ প্রভাবের বাইরে থাকবে না।
বাংলাদেশে কিছু লোক এমনও আছেন যারা নিজ প্রতিষ্ঠা সম্পদ-সম্মান এমনকি জীবন বিপন্ন করেও নবী করিম (সা.)-এর মর্যাদার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। ঈমানী ও আধ্যাত্মিক আন্দোলনে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এই অবস্থানের পক্ষে স্বচ্ছ অন্তকরণ কোন কোন ব্যক্তি নবী করিম (সা.)-এর সমর্থন ও আনুকূল্যও অনুভব করেছেন। অনেকে অনেক ইঙ্গিতবহ শুভ স্বপ্নও দেখেছেন।
বহু লোক এমন পাওয়া যায়, যারা সবসময় নবীপ্রেমের কথা বলেন, কিন্তু যথা সময় তারা সচেতন থাকেন না। কিছু লোক এমনও আছেন, যারা ঈমানী আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পেয়েও বঞ্চিত। তারা ভয়ভীতি বা লোভ-লালসায় পড়ে ঈমানী আন্দোলন থেকে দূরে সরে গেছেন। কিন্তু সৌভাগ্যবান তারাই যারা সর্বাবস্থায় নবী করিম (সা.)-এর আনুগত্য ও ভালোবাসার পথে দৃঢ়পদ থাকতে সক্ষম। বিশ্বব্যাপী এখন এ মেরুকরণটিই চলছে।
অতীতে আমাদের দেশ থেকে নবী করিম (সা.)-এর শানে বেয়াদবির অপরাধে দাউদ হায়দারকে বিতাড়িত করা হয়। বঙ্গবন্ধুর সময়েই তার জন্য এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও ধর্মদ্রোহিতার জন্য তসলিমা নাসরিনকেও দেশছাড়া হতে হয়। সর্বশেষ লতিফ সিদ্দিকীও এ পথই বেছে নেন। তবে ১৫ কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত করে যে ধর্মদ্রোহিরা বিচার এড়িয়ে বিদেশে আশ্রয় নেয় তাদের নিরাপদ আশ্রয় দিয়ে প্রতিবেশী ভারত সঠিক কাজ করছে কি না সে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশেষ করে নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ঔদ্ধত্য প্রদর্শনকারী কোন ব্যক্তির পক্ষ নেয়া মানে সরাসরি নবী  (সা.)-এর বিপক্ষে চলে যাওয়া। এ দায়টি কোন চিন্তাশীল ব্যক্তি, সরকার বা রাষ্ট্রের পক্ষেই গ্রহণ করা সমীচীন হতে পারে না। কারণ, যাকে উদ্দেশ্য করে সারাজাহান সৃষ্টি তার সাথে শত্রুতা করে কে পৃথিবীতে ভালো থাকবে, এটি জগতের কারো বুঝে আসার কথা নয়। এ বিষয়টি কেন্দ্র করেই আগামীদিনের বিশ্বব্যবস্থা নির্ণিত হবে।
আরব বিশ্বের কোন এক বা একাধিক শিক্ষাবিদ এমন একটি গবেষণা করেছেন যে, নবী করিম (সা.)-এর রওজা থেকে তাঁর দেহ মোবারক তুলে এনে বাকি কবরস্থানে সর্বসাধারণের মাঝে দাফন করে দেবেন। যাতে আলাদাভাবে কেউ চিহ্নিত করতে না পারে, কোনটি নবী  (সা.)-এর কবর শরিফ। হয়ত এ গবেষণায় কোন শাসক শক্তির, অর্থ-সম্পদও ব্যয়িত হয়েছে। বিশ্ব মুসলিমের প্রতিবাদের মুখে এ ধরনের গবেষণা বেশিদূর এগোয়নি বটে; তবে যারা এহেন চিন্তা বা গবেষণা করেছেন, যারা এ পথে অর্থব্যয় করেছেন তাদের কবর কিন্তু খোঁড়া হয়ে গেছে। পরিবর্তনের ধারায় তারাও সহসাই আকাশ থেকে পাতালে ছিটকে পড়বেন ইনশাআল্লাহ।
নবী করিম (সা.)-এর উদ্দেশ্যে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর চরম বেয়াদবিসূচক উক্তির পরপরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাকে মন্ত্রিসভা ও দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন। যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইংল্যান্ডের পথে বিমানে বসেই তিনি মনস্থির করেন এবং হিথ্রো এয়ারপোর্টে নেমেই দেশে টেলিফোন করেন। লন্ডনে বসে তার কথা হয় দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক জনাব এ এম এম বাহাউদ্দীনের সাথে।
ইনকিলাব সম্পাদক বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি হিসেবে দেশের আলেম সমাজ, পীর-মাশায়েখশ্রেণী ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মানুষের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে তার এ সিদ্ধান্তের জন্য আন্তরিক মোবারকবাদ জানান। সে সময় প্রধানমন্ত্রী তাকে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে কিছু কথা বলেন। সত্যিই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরপরই প্রেসিডেন্ট হজ থেকে ফিরে এলে প্রথমেই লতিফ সিদ্দিকীর ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু হয়। মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়। দলের সভাপতিম-লী থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে অপসারণের প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে অনেকগুলো মামলা দায়ের হয়েছে। অনেক মামলায় সমন জারি হয়েছে। একটি মামলায় তার নামে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি হয়। দেশে ফেরামাত্রই তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। দেশীয় আইনে তার বিচারও নিশ্চিত প্রায়। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব নবী করিম (সা.)-এর একজন নিষ্ঠাবান উম্মতের মতোই। ব্যক্তি, দল, সরকার ও রাষ্ট্রক্ষমতা কোন কিছুই একজন মুসলমানের কাছে প্রিয়নবী (সা.)-এর সম্মানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে না। এক্ষেত্রে কারো পা পিছলে গেলে সে তার সৌভাগ্যের কবরই কেবল রচনা করতে পারে। নবী করিম (সা.)-এর বিপক্ষে যাওয়া মানেই নিজের ইহ-পরলোকের সব অর্জনের কবর রচনা। লতিফ সিদ্দিকীরা নিজেদের পাশাপাশি আরো অনেকের জন্যই এই কবর খুঁড়ে ফেলেছেন। যারা সচেতনভাবে এসব ধর্মদ্রোহিকে এড়িয়ে চলবেন তারাই কেবল রক্ষা পাবেন।  যারাই ভুল করবেন তারা নিক্ষিপ্ত হবে জাহান্নামের অগ্নিকু-ে।
প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে বসে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে  যে আশ্বাস দিয়েছিলেন, ঢাকায় তার দ্বিতীয় কর্মদিবসেই তিনি এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করেছেন। ঢাকা বা আশপাশে জায়গা পাওয়া না গেলে মাওয়া পদ্মা পাড়ে যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জায়গা নেয়া হয়। নতুন করে ভিসি নিয়োগের কাজও  দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন তিনি। সত্যিই ধর্মপ্রাণ মানুষের দাবি পূরণ ও নিজের ঈমানী অবস্থান সুস্পষ্ট রাখার এ নজির প্রশংসনীয়। নবী করিম (সা.)-এর প্রতি কটূক্তি ও চরম অবমাননাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের সাথে যেসব লোকের দূরত্ব তৈরি হয়েছে আশাকরি তাদের প্রতি ইতিবাচক বার্তা দেয়ার কোন সুযোগই তিনি হাতছাড়া করবেন না। বিগত ৫/৭ বছরে এদেশে বিশ্বনবী (সা.)-এর অবমাননার যত ঘটনা দেখা গেছে এ সবের উপযুক্ত প্রতিবিধিান করাও প্রধানমন্ত্রীর ঈমানী দায়িত্ব। নবীপ্রেমিক মুসলমান হিসেবে এক্ষেত্রে তার আন্তরিক অবস্থান ও ঈমানী দৃঢ়তা তার গোটা জীবনেই এঁকে দিতে পারে ঐশী সাফল্য ও গ্রহণযোগ্যতার ছোঁয়া। নাস্তিক-মুরতাদ ও ধর্মহীন নরপশুরা তাকে যে মহাসৌভাগ্য থেকে বঞ্চিত করার হাজার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। নেত্রী তাদের সময় মতোই লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত করেছেন। আশাকরি ভবিষ্যতেও তিনি পূর্ণ আন্তরিক ও দৃঢ় থাকবেন।
নবী করিম (সা.)-এর নাম ও নিসবতের মর্যাদা রক্ষায় ভূমিকা রাখার অসামান্য শুভ পরিণাম সম্পর্কে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা এখানে উল্লেখ করছি।
ইসলাম জগতের প্রাত স্মরণীয় মনীষী হজরত জুনায়েদ বাগদাদির নাম কে না জানে? চার তরিকার শাজারাতেই তার নাম শ্রদ্ধার সাথে উচ্চারিত হয়ে থাকে। হজরত জুনায়েদ বাগদাদি মূলত কোন দরবেশ ছিলেন না। শুরুতে তিনি ছিলেন একজন বীর যোদ্ধা। কুস্তিগীর হিসেবেও তার খ্যাতি ছিল অপরিসীম। মুসলিম সা¤্রাজ্যের অপ্রতিদ্বন্দ্বী কুস্তিগীর পাহলোয়ান রূপে হজরত জুনায়েদ ছিলেন বাগদাদের প্রিয়মুখ। পাহলোয়ান হিসেবে খলিফার দরবারেও ছিল তার বিশেষ সম্মানিত অবস্থান। হজরত জুনায়েদ বাগদাদির ওলীকুল শিরোমণিতে পরিণত হওয়ারই ঐতিহাসিক ঘটনা এটি।
একবার বাগদাদের খলিফার পক্ষ থেকে ঘোষণা দেয়া হল, সাম্রাজ্যের যে ব্যক্তি রাজ পাহলোয়ান জুনায়েদকে পরাজিত করতে পারবে তাকে দশ হাজার স্বর্ণমুদ্্রা আর খলিফার পরিষদে স্থান দেয়া হবে। ঘোষণা শুনে চীন থেকে মরক্কো পর্যন্ত মুসলিম জাহান জুড়ে হৈ চৈ পড়ে গেল। নানা জায়গার পাহলোয়ানরা বাগদাদে এসে সমবেত হতে লাগলেন। জুনায়েদকে পরাজিত করা চাট্টিখানি কথা নয়।
এরিমধ্যে ঘটল এক যুগান্তকারী ঘটনা। আরবের এক অভিজাত দরিদ্র ব্যক্তি জুনায়েদ বাগদাদিকে ডেকে পাঠালেন। ফর্সা ঋজু নুরানী চেহারার এই বিশিষ্ট ব্যক্তি জুনায়েদকে বললেন, দেখুন জুনায়েদ, আমি আপনাকে একটি প্রস্তাব দেব বলে ডেকে এনেছি। আপনি এতে হ্যাঁ বা না দু’টোই বলতে পারেন। প্রস্তাবটি হচ্ছে, আগামী প্রতিযোগিতায় আপনি আমার কাছে হেরে গিয়ে আমাকে খলিফার পরিষদে জায়গা করে দেবেন। এতে আমি তাকে রাষ্ট্র পরিচালনায় সুপরামর্শ দিতে সক্ষম হব। আমার আর্থিক দুরবস্থাও কেটে যাবে। দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা পেলে আমি ঋণমুক্ত হতে পারব। জুনায়েদ বাগদাদি বললেন, জনাব এতে আমার কি লাভ হবে? ব্যক্তিটি জবাবে বললেন, দেখুন জুনায়েদ আমি একজন হোসাইনি বংশীয় সৈয়দ। ইমাম হোসাইন, মা ফাতিমা (রা.) ও হজরত আলী (রা.) এর বংশধর হওয়ায় আমার জন্য দান সদকা বা জাকাত গ্রহণও বৈধ নয়। ছোটখাট কোন কাজ করেও প্রয়োজনীয় রুজিটুকু করতে পারিনি। বেশ কষ্টসৃষ্টে দিন গুজরান করছি। ভাবলাম, কারো কাছে হাত পাততে পারবো না। আপনার মতো উদার ও সজ্জন মানুষের সহায়তা পেলে আমার ভাগ্যটা বদলে যেতে পারে।
যুবক জুনায়েদ কিছুক্ষণ ভেবে দেখলেন। একজন আওলাদে রাসূলের বিপন্ন অবস্থা বদলে দিতে পারেন তিনি। বিনিময়ে দুনিয়ায় কিছু পাবেন বলে মনে হয় না। এতে তার ত্যাগের পরিমাণ অনেক বেশি। খলিফার দরবার ছাড়তে হবে। পাহলোয়ানির শীর্ষপদ স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিতে হবে। পাতানো মল্লযুদ্ধে হেরে গিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান বিসর্জন দিতে হবে। নগদ দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা এই নবীবংশীয় ভদ্রলোকের অনুকূলে ছেড়ে দিতে হবে। নিজের সুখ্যাতি, সম্পদ, প্রতিষ্ঠা বিসর্জন দিয়ে হয়ত বাগদাদ ছেড়েই নিভৃত জীবনে ফিরে যেতে হবে। কিন্তু জুনায়েদ মনস্থির করে ফেললেন। বললেন, ঠিক আছে জনাব, আমি একজন নবীবংশীয় ব্যক্তির প্রতিষ্ঠা, সম্মান, বিত্ত ও অবস্থানের জন্য নিজের অবস্থান ও সুযোগ-সুবিধা ছেড়ে দিলাম। আপনি যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা আমি গ্রহণ করলাম। আসন্ন প্রতিযোগিতায় কাউকে কিছু বুঝতে না দিয়েই আমি আপনার কাছে হেরে যাব। সম্মানজনকভাবে হবে আপনার প্রতিষ্ঠা ও রাজকীয় অধিষ্টান। জুনায়েদ পরাজিত হয়ে বিদায় নেবে, শেষ হয়ে যাবে তার দীর্ঘ সাধনায় গড়ে ওঠা ক্যারিয়ার।
প্রতিযোগিতার দিন জুনায়েদ বহু বীরকে যথারীতি ধরাশায়ী করলেন। একপর্যায়ে এই আওলাদে রাসূল (সা.) রিংয়ে প্রবেশ করলেন। জুনায়েদ কথামতো অভিনয় করে গেলেন এবং শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়ে বিদায় নিলেন। ভক্তরা হতাশা ও কান্নায় ভেঙে পড়ল। সারা বাগদাদে নেমে এল শোকের ছায়া। কিন্তু জুনায়েদের মনে দেখা গেল এক অপার্থিব আনন্দের উচ্ছ্বাস। তিনি সৌম্য শান্ত চেহারায় ঘরে ফিরলেন। এই রাতেই স্বপ্নে দেখলেন জুনায়েদ। বিশ্বজাহানের জন্য রহমতের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাকে বলছেন, জুনায়েদ আমার বংশের একজন লোকের জন্য তুমি আজ যে আত্মত্যাগ করেছ এতে আমি খুবই খুশি। যে অবস্থান তুমি আজ ছেড়ে এসেছ এর পরিবর্তে বিশ্বব্যাপী তোমার সুখ্যাতি প্রতিষ্ঠিত করা হবে। ইলম ও বেলায়েতের উচ্চ মাকামে তোমাকে অধিষ্ঠিত করা হল। দুনিয়ার মানুষ তোমাকে জুনায়েদ বাগদাদি নামে চিরদিন স্মরণ করবে।
নবী করিম (সা.)-এর প্রতি ভক্তি, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাই ঈমানের চাবিকাঠি। তার নবুওয়াতের প্রতি বিশ্বাস রেখে তার রিসালতের সাক্ষ্য না দিলে মানুষ মুসলমান হতে পারে না। একজন মানুষেও জীবন ব্যর্থ বা সফল হওয়ার মাপকাঠিই হচ্ছে হজরত নবী করিম (সা.)-এর সাথে তার সম্পর্কের ধরন। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে বিশ্বনবী শত্রুরা অবশ্যই ধ্বংস হবে। নবীজির সাথে বিদ্বেষ পোষণকারীদের বিনাশ  ও বিলুপ্তি  অনিবার্য। যারা নবী করিম (সা.)-এর সম্মান ও মর্যাদার পক্ষ  নেবে তারাই ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। তার সাথে বিদ্বেষী পোষণকারীরা যত ক্ষমতাধর আর দাম্ভিকই হোক সহসাই ধূলায় মিশে যাবে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

সিডনি প্রবাসীদের ঈদুল ফিতর উদযাপন
৩ বছর আগে
শবে মেরাজ ২২ মার্চ
৬ বছর আগে
বাংলাদেশি সংবাদ
এক নজরে মিজানুর রহমান আজহারী
৭ বছর আগে

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com