Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

রাজনীতি
৯:৫৮ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০১৪

নতুনত্বে ভরা দশম সংসদ : অধিবেশন শুরু

সংসদ রিপোর্টার : নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নবম সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সভাপতিত্বে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা ০৫ মিনিটে দশম সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নবম সংসদের ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) […]

নতুনত্বে ভরা দশম সংসদ : অধিবেশন শুরু
৫ মিনিটে পড়ুন |
সংসদ রিপোর্টার : নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নবম সংসদের ডেপুটি স্পিকার শওকত আলীর সভাপতিত্বে গতকাল সন্ধ্যা ছয়টা ০৫ মিনিটে দশম সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রথমেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে নবম সংসদের ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর সংসদ সদস্যদের ‘হ্যাঁ’ ভোটে স্পিকার নির্বাচিত হন ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। এরপর অধিবেশনের বিরতি হলে দশম সংসদের স্পিকার হিসেবে শিরিন শারমিন চৌধুরীকে ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ফজলে রাব্বি মিয়াকে শপথবাক্য পাঠ করার প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট। নতুন স্পিকারের সভাপতিত্বে পর্যায়ক্রমে সভাপতিম-লী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ এবং রেওয়াজ অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। প্রথম দিনের অধিবেশনে প্রায় সব সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রেসিডেন্ট তার ভাষণে নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়ায় জনগণকে ধন্যবাদ জানান।
এবারের সংসদে অন্যান্য সংসদগুলোর চেয়ে বেশ কিছু নতুনত্ব রয়েছে এবং আছে ব্যতিক্রম। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮টি রাজনৈতিক দল, সিপিবিসহ বাম ও ইসলামী ধারার দল এবং বি চৌধুরী, কাদের সিদ্দিকী, রবের দলসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশ না নেয়ায় এই সংসদ ব্যতিক্রম হয়ে থাকছে। সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো প্রধান বিরোধী দলের আসনে রয়েছে জাতীয় পার্টি। সংসদের ইতিহাসে সরকারি দল ও বিরোধী দল পরস্পরবিরোধী অবস্থানে থাকলেও এবারই প্রথম প্রধান বিরোধী দল সরকারেরও অংশ। আবার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদকে বিরোধীদলীয় নেতা না করে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করা হয়েছে। এটাও একটা নতুন নজির।
এছাড়া এবারের সংসদের কার্যপ্রণালীতেও কিছু পরিবর্তন হয়েছে। কোনো সংসদ সদস্য মারা গেলে কার্যদিবস মুলতবি রাখার রেওয়াজ থাকলেও এবারের সংসদে তা রাখা হচ্ছে না। প্রেসিডেন্টের ভাষণের আগে করা হয়েছে বিউগল বাজানোর ব্যবস্থা। নিরাপত্তার দিক থেকেও কড়াকড়ি। সংসদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন থেকে একটির বেশি মোবাইল ফোন নিয়ে সংসদে প্রবেশ করতে পারবেন না। সংসদ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অধ্যাপক ড. পিয়াস করিম বলেন, সরকারের ভুলে গেলে চলবে না যে, এই সংসদ বা সরকার জনগণের ভোটের দ্বারা নির্বাচিত নয়। আর এই নির্বাচন দেশে-বিদেশে কোথাও গ্রহণযোগ্য হয়নি। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে ও এর ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বিদেশে দেশের সম্মান ধরে রাখতে সরকারের উচিত সংসদকে দীর্ঘায়িত না করে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, সরকার দুই বছর এই সংসদ চালাবে বলে মনে হচ্ছে। তবে সংসদের বাইরে বিরোধীদলগুলোর সাথে সমঝোতার ক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধী দল উভয়কেই কৌশল পরিবর্তন করতে হবে। তবে দেশের স্বার্থে উভয়ের মাঝে তাড়াতাড়ি একটি সমঝোতা হওয়া উচিত। জনগণ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। সাবেক জজ ইকতেদার আহমেদ বলেন, একটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব দলের অংশগ্রহণে মধ্যবর্তী নির্বাচন আশা করছে দেশবাসী। নতুন সংসদের উচিত হবে জনগণের আকাক্সক্ষার দিকে নজর দেয়া।
১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা চালু হয়। পঞ্চম জাতীয় সংসদে গণতন্ত্রের পথে নতুন যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় দল বিএনপি সংসদের বাইরে। এর আগে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটারবিহীন নির্বাচনে গঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদে প্রধানতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সংসদে ছিল না। একতরফা নির্বাচনে তখন সরকার গঠন করেছিল বিএনপি। সংসদে মাত্র একটি আসন নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা হয়েছিলেন ফ্রিডম পার্টির কর্নেল (অব.) খন্দকার আবদুর রশীদ। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামি আবদুর রশিদ এখন পলাতক। ওই সংসদে আন্দোলনরত দলগুলোর (আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি, জামাযাত, বামদলগুলো প্রভৃতি) দাবির মুখে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আইন সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, এবারের সংসদের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় ১৯৮৮-এর চতুর্থ সংসদেরও। তখন জাতীয় পার্টির সরকারের অধীনে আয়োজিত নির্বাচন বর্জন করেছিল আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ বেশির ভাগ দল। জাসদ সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল সম্মিলিত বিরোধী দল। বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, ফ্রিডম পার্টি ও জাসদ (শাজাহান সিরাজ) ওই নির্বাচনে অংশ নেয়। সব মিলিয়ে বিরোধী দল পেয়েছিল ৪৭টি আসন। বাকি ২৫৩ আসন পায় এরশাদের জাতীয় পার্টি।
আইনি ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার বিচারে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বৈধ হলেও প্রধান বিরোধী জোটের (১৯ দল) বর্জন, ১৫৪ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন, ব্যাপক সহিংসতায় নগণ্য ভোটারের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। আর জাতীয় পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ইঁদুর বিড়াল খেলায় ইসির পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ রয়েছে। এধরনের একটি নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত দশম জাতীয় সংসদে এবার সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল। একই সঙ্গে দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরল নজির স্থাপন হচ্ছে এরশাদের জাতীয় পার্টি সরকারের অংশ হিসেবে বিরোধী দলের অবস্থানের মধ্য দিয়ে। সরকারে অংশ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টির ভূমিকা কেমন হবে, তা নিয়ে সবার মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল রয়েছে। বিশিষ্টজনেরা এই বিরোধী দলকে গৃহপালিত বিরোধী দল হিসেবে অবিহিত করেছেন অনেক আগেই। যদিও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ বলেছেন, এটা নতুন কনসেপ্ট। আমরা দেখাতে চাই, আমাদের মন্ত্রী আছেন ঠিকই, কিন্তু আমরা সেভাবেই বিরোধী দলের ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদের আন্তরিকতার ঘাটতি হবে না। তিনি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, জাতীয় পার্টি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণ করতে কাজ করবে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান আমাদের স্বীকার করতেই হবে। জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার দাবি করেছেন, তারা ব্যতিক্রমী প্রচেষ্টার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগের দিন সংসদীয় দলের সভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নির্বাচিত হওয়ার পর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, সরকারে অংশগ্রহণ থাকলেও বিরোধী দল হিসেবে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনায় ছাড় দেবে না জাতীয় পার্টি।
প্রসঙ্গত, দশম সংসদে ২৯৭টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ২৩১টি। এছাড়া জাতীয় পার্টি ৩৪, ওয়ার্কার্স পার্টি ৬, জাসদ ৫, জাতীয় পার্টি জেপি ২, তরীকত ফেডারেশন ২, বিএনএফ ১ এবং স্বতন্ত্র ১৬টি আসন পেয়েছে। ২৪ জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৮ আসনের সংসদ সদস্য শওকত মোমেন শাহজাহানের মৃত্যুতে একটি আসন শূন্য হয়েছে। আর যশোর-১ ও ২ আসনের ফল এখনো গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়নি। কারণ, বেসরকারিভাবে নির্বাচিত দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
http://www.dailyinqilab.com/2014/01/30/157381.php#sthash.6yvgKxUn.dpuf
Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

নির্বাচনে অটোভোট সমর্থন করেন
৬ বছর আগে
সিডনিতে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালন
৬ বছর আগে

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com