Advertise with us
সম্পূর্ণ নিউজ nobodharanews

রাজনীতি
৯:৫৬ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০১৪

আল জাজিরার প্রতিবেদন : বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর আরও বেশি বিধি-নিষেধ আরোপের আশংকা : দমন অভিযানে বিরোধীদের হত্যা করা হচ্ছে এইচআরডব্লিউ

বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী দমন অভিযানে বিরোধী দলের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সোমবার সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের কথিত ‘ক্রসফায়ার’ হত্যাকা-কে আতঙ্কজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস জানিয়েছেন। […]

আল জাজিরার প্রতিবেদন : বাংলাদেশের গণমাধ্যমের ওপর আরও বেশি বিধি-নিষেধ আরোপের আশংকা : দমন অভিযানে বিরোধীদের হত্যা করা হচ্ছে এইচআরডব্লিউ
৮ মিনিটে পড়ুন |
বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী দমন অভিযানে বিরোধী দলের সদস্যদের হত্যা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে নিউ ইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। সোমবার সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যদের কথিত ‘ক্রসফায়ার’ হত্যাকা-কে আতঙ্কজনক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সংস্থাটির দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস জানিয়েছেন। অন্যদিকে, গণমাধ্যমের ওপর কর্তৃপক্ষ আরও বেশি মাত্রায় বিধি-নিষেধ আরোপ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশী সংবাদকর্মীরা। বিরোধী দলের অবস্থানের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে ইতিমধ্যে দু’টি টিভি চ্যানেল এবং দু’টি দৈনিক পত্রিকা অস্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও ক্ষমতাসীন দল ২য় মেয়াদে সরকার গঠন করার পর ঘোষণা দিয়েছে, অবাধ ও সুষ্ঠু গণমাধ্যম চর্চা নিশ্চিত করার জন্য দ্রুতই বেসরকারি চ্যানেলগুলোর জন্য জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে। সংবাদ সংস্থা আল জাজিরার খবরে আরও বলা হয়, সমালোচকরা বলছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য এটা অশনিসঙ্কেত। দৈনিক নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির বলেন, যখনই কোন সরকার গণমাধ্যম নীতিমালার কথা বলে, তারা প্রকৃতপক্ষে নিজেদের সুবিধামতো মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের কথাই বলছে।  সূত্র: ওয়েবসাইট। এদিকে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের ব্যাপারে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনী যাদেরকে হেফাজতে নেয়, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়ার জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়। সংস্থাটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয় পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে গঠিত যৌথবাহিনী বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রেখেছে। নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, গ্রেফতারের পর যারা মারা গেছে, সেটা হয়েছে ‘ক্রসফায়ারে’। ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে বিরোধী দলের সদস্যদের কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার আতঙ্কজনক চিত্র দেখছি। বাংলাদেশ সরকারের উচিত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং এসব মৃত্যুর নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত করা।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-ের কয়েকটি ঘটনা পর্যালোচনা করেছে। এতে বলা হয়, সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদল নেতা আজহারুল ইসলাম ২৭ জানুয়ারি নিহত হন। এর এক দিন আগে নির্বাচন-পূর্ব সহিংসতার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, বিরোধী দলের ‘গোপন আস্তানা’র খোঁজে যাওয়ার সময় বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। সাতক্ষীরায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই সদস্যও ২৬ জানুয়ারি একই পরিণতি ভোগ করেন। পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের এক দিন পর বন্দুকযুদ্ধে আহত হয়ে আবুল কালাম ও মারুফ মারা গেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই দুই ছাত্র যৌথবাহিনীকে সন্দেহভাজনদের গোপন আস্তানায় নিয়ে যাওয়ার সময় তারা হামলার মুখে পড়ে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় তাদের তিন কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতা তারিক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ার এক দিন পর ২০ জানুয়ারি কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, জামায়াত কর্মীদের অস্ত্র লুকিয়ে রাখার স্থান দেখিয়ে দিতে নেয়ার সময় তিনি মারা যান। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তা হেফাজতে হত্যাকা- অনেক বেড়ে গেছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ জানায়, তারা হামলার মুখে পড়ার পরই কেবল গুলি চালিয়েছে। এভাবে নিহতদের মধ্যে বিএনপির দুই সদস্যও রয়েছেন। নির্বাচন-পূর্ব অন্যতম সহিংস ঘটনার সাথে তাদের সম্পর্ক ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা হলেন আতিকুল ইসলাম ও গোলাম রাব্বানী ১৪ ডিসেম্বর ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূরের গাড়িবহরে হামলা-সংক্রান্ত মামলায় ফেরারি ছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা আওয়ামী লীগের চারজনসহ পাঁচ ব্যক্তিকে হত্যা করেছিল। এই হামলার সাথে জড়িত থাকায় পুলিশ ১৫০০ লোকের বিরুদ্ধে মামলা করে। এদের মধ্যে আতিক ও রাব্বানীসহ ১৪ জন ছিলেন প্রধান আসামি। আতিকের এক স্বজন জানিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পরিচয়ে পাঁচ থেকে ছয় ব্যক্তি ১৩ জানুয়ারি তাকে তার আত্মীয় মহিদুল ইসলামসহ বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়েছিল। পরিবার সদস্যদের পুলিশ জানিয়েছিল, আতিককে প্রথমে দেলদুয়ার থানায় এবং তারপর টাঙ্গাইল জেলা সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ২০ জানুয়ারি রাস্তার পাশে আতিকের লাশ পাওয়া যায়। তার মাথার পেছনে বুলেটের আঘাত ছিল। মহিদুল ইসলাম এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্বজনদের মতে, ১৫ জানুয়ারি বিপুল সংখ্যক লোক এসে গোলাম রাব্বানীকে নিয়ে যায়। ওই সব লোকের গায়ে র‌্যাবের মতো কালো ইউনিফর্ম থাকলেও বন্দুক ছিল না। ওই এলাকায় র‌্যাবের কোনো ক্যাম্পও ছিল না। পরে জানতে চাইলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা রাব্বানীর আটকের ব্যাপারে কিছু জানে না। ১৯ জানুয়ারি রাব্বানীর লাশ পাওয়া যায়। লাশের মাথায় দুটি গুলির চিহ্ন ছিল, গলায় ছিল রশি। ওই লাশটি দেখে এক স্বজন জানিয়েছেন, লাশের গায়ে অনেক দাগ ছিল, তাতে বোঝা যায়, তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। রাব্বানীর স্ত্রী শাহনাজ বেগম হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে বলেন, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা যেত, অপরাধী প্রমাণিত হলে সাজাও দেয়া যেত। তিনি বলেন, যথাযথ বিচারে তার ফাঁসি হলেও আমি মেনে নিতে পারতাম। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যা হয়েছে তা ছিল খুন। আমি সরকারের কাছে এর বিচার চাই। ছাত্রশিবিরের এক সদস্য গত অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে অনেকবার কিভাবে পেটানো হয়েছে, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কাছে তার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, সাত থেকে আটজন ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে তাকে আঘাত করে। আমার হাত দুটিতে হ্যান্ডকাফ পরানো ছিল। একজন আমাকে ধরে রাখছিল, অন্যজন পেটাচ্ছিল। আমাকে মেরে মাটিতে ফেলে দেয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে থানায়। তিনি জানান, মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় আরো দু’জনের সাথে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তিনি বলেন, পুলিশ মনে করেছিল, আমরা একই দলের সদস্য। অথচ আমি আগে কখনো ওই দু’জনকে দেখিনি। তিন মাস পরে তিনি মুক্তি পান। বেশির ভাগ সময় তিনি কাশিমপুর কারাগারে ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমার সেলে ২০০ জন ছিল। তাদের বেশির ভাগই ১৮ দলীয় জোটের সদস্য। গরমে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। কোনো বিছানা ছিল না, সবাই মেঝেতে ঘুমাতো। এদের একজন ছিলেন মিরপুরের ছাত্র। তিনিও ছিলেন শিবিরের কর্মী। তাকে হাতুড়ি দিয়ে পেটানো হয়েছিল। তার শরীরের প্রতিটি জোড়া ফুলে গিয়েছিল, অথচ তাকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়নি। সে নিজে নিজে খেতে পারত না, কারো সাহায্য ছাড়া টয়লেটেও যেতে পারত না।’ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরাপত্তা বাহিনীর অস্ত্র ব্যবহার-সংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘ নীতি অনুসরণ করতে প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ নীতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রথমে অহিংস পন্থা অবলম্বন করতে হবে। আইন প্রয়োগকারী বাহিনী যাতে প্রতিটি ঘটনার যথাযথ প্রতিবেদন প্রকাশ করে তার ব্যবস্থা করতে হবে। মৃত্যু এবং মারাত্মক আঘাত কিংবা এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে যথাযথ প্রশাসনিক, বিচার বিভাগীয় নির্দেশনা ও ব্যবস্থা থাকতে হবে। অ্যাডামস বলেন, বাংলাদেশ প্রবল গতিতে মারাত্মকভাবে মানবাধিকার সঙ্কটের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার সময় ক্রসফায়ারে হত্যাকা-ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছিল। কিন্তু এখন ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করতে কিছুই করছে না। প্রধানমন্ত্রীর এখনই সময় হত্যাকা- ও নির্যাতনের নিন্দা করে প্রকাশ্যে বিবৃতি দেয়া এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখা। অন্যদিকে,তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশের কারণে ইনকিলাবের ছাপাখানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই প্রতিবেদন ছাপানোর যে মামলা আদালতে চলছে তাতে ইনকিলাব কর্তৃপক্ষ জয়ী হলে ছাপাখানা পুনরায় চালু হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশ ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার চেষ্টা করেছে- এই মর্মে সরকার মামলা করেছে। ২০শে জানুয়ারি আদালত আটক আহমেদ আতিকের দু’দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ইনকিলাবের বার্তা সম্পাদক রবিউল্লাহ রবি ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রতিবেদক রফিক মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। ইনকিলাবের আইনজীবী সৈয়দ আহমেদ গাজী  আল-জাজিরাকে বলেন, পত্রিকাটির প্রিন্ট এডিশন বন্ধ করার পিছনে সরকার কোন বৈধ যুক্তি প্রদর্শন করেনি।  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র প্রেসিডেন্ট শাহেদ চৌধুরী প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে তিনি একথাও বলেন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার না করে সরকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যুত্তরের মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশের প্রতিবাদ করতে পারতো- যে চর্চাটি সাধারণত চলে আসছে।  বিরোধী দলের সমর্থক দৈনিক আমার দেশ ২০১৩’র এপ্রিলে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয়া হয়। আটক করা হয় পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে, যিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন সমালোচক। গণমাধ্যমের ওপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- এই মর্মে ২০১৩ সালের ৭ই আগস্ট হাইকোর্ট রুল জারি করলেও সরকার এখনও পর্যন্ত এর জবাব দেয়নি। আর ওই রুল জারি করার পর এখনও কোন শুনানি হয়নি বলে জানান দৈনিক আমার দেশ-এর আইনজীবী। ২০১৩’র ৬ই মে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ উস্কে দেয়া এবং সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে বন্ধ করে দেয়া হয় দিগন্ত এবং ইসলামিক টেলিভিশন চ্যানেল দু’টির সম্প্রচার। উভয় চ্যানেল ওইদিন হেফাজতের সমাবেশ কভার করার চেষ্টা করেছিল। ইসলামিক টেলিভিশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস ইস্কান্দার আল-জাজিরাকে জানান, তদন্ত কাজ সহজ করার জন্য আমরা আমাদের চ্যানেলে ও অন্যান্য সরকার-সমর্থক টিভি চ্যানেলগুলোর ২৪ ঘণ্টার ফুটেজ দাখিল করেছি। এছাড়াও সংবাদ প্রচার বন্ধ রেখে অন্যান্য সম্প্রচার চালু করার অনুমতি দেয়ার জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানালেও তা মঞ্জুর হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। এইসব মিডিয়া হাউজগুলোর ভবিষ্যৎ কি? আল-জাজিরার এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী ইনু বলেন, তারা এখনও সন্দেহভাজনদের মধ্যে রয়েছেন। তাদের সম্প্রচার ও সংবাদ প্রকাশের পেছনে অন্য কোন অভিসন্ধি ছিল কিনা তা নির্ণয় করতে এখনও তদন্ত চলছে। তদন্ত কাজ শেষ হলেই তাদের বিষয় নিষ্পত্তি হবে। রাজনৈতিক সমর্থনের কারণে ওই চার মিডিয়া হাউজ বন্ধ করা হয়েছে বিরোধী দলের এমন অভিযোগের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ইনকিলাব ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদনের জন্য দুঃখপ্রকাশ করেছে। এদিকে অনেক সংবাদকর্মী বিশেষ করে টিভি চ্যানেলগুলোর সংবাদকর্মীরা জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার খসড়ার বিষয়ে উদ্বিগ্ন। সম্প্রচারের বিষয়ে প্রস্তাবিত নীতিমালার মধ্যে লাইসেন্সিং এবং বিজ্ঞাপনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও কোন ধরনের অনুষ্ঠান অনুপযুক্ত প্রতীয়মান হবে সে বিষয়ে একটি অনুচ্ছেদ রয়েছে। নীতিমালার অনেকগুলো ধারায় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে বেশকিছু সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে, যেগুলো কোনভাবেই অতিক্রম করা যাবে না। এছাড়াও নীতিমালায়, সম্প্রচার লাইসেন্স সংক্রান্ত যাবতীয় প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার রয়েছে তথ্য মন্ত্রণালয়ের। আল-জাজিরাকে ইনু বলেন, কয়েক মাসের মধ্যেই এ আইন পাস করা হবে। নূরুল কবিরের মতে, এ নীতিমালার উদ্দেশ্য হলো ভিন্নমতের বাকরোধ করা। আজকের পদাধিকারীরা যখন দু’টি টিভি চ্যানেল এবং দু’টি সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়েছে; সেটা বিবেচনা করে এটা সহজেই বলা যায়, তারা নিজেদের রাজনৈতিক সুবিধার জন্য মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। এটাকে স্বাধীন মত প্রকাশের স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস কমিউনিকেশন এবং জার্নালিজম’ বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর ফাহমিদুল হক ইনকিলাবের প্রতিবেদনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত আখ্যা দিলেও সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আইনি প্রক্রিয়ার তোয়াক্কা না করে মিডিয়া হাউজগুলো একচেটিয়া বন্ধ করে দেয়াটা অশুভ লক্ষণ। যে নীতিমালা সরকারকে লাইসেন্স বাতিল অথবা সরকারী কর্মকা-ের সমালোচনা বন্ধ করার অধিকার দেয়, সেটা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা লঙ্ঘন।
http://www.dailyinqilab.com/2014/01/30/157398.php#sthash.SwABG4lF.dpuf
Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর

নির্বাচনে অটোভোট সমর্থন করেন
৬ বছর আগে
সিডনিতে খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী পালন
৬ বছর আগে

Advertise with us
Advertise with us
আরও nobodharanews সংবাদ


Design and Development by : webnewsdesign.com